অনলাইন ডেস্ক ২৯ মে ২০২৪ , ২:৩৩:২৮
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থী ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। দুই প্রার্থী হলেন- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোটভাই শাহাদাত হোসেন (টেলিফোন) ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বাদল (দোয়াত-কলম)।
বুধবার (২৯ মে) দুপুর ১২টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ভোট ডাকাতি, কেন্দ্র দখল, জাল ভোটসহ এজেন্ট বের করে দেওয়ার অভিযোগ তুলে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন তারা।
দুই প্রার্থীর অভিযোগ, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার নেতৃত্বে তার ছেলে তাশিক মির্জা কাদের ও ভাগিনারা কেন্দ্র দখলে নিয়ে ব্যালটে সিল মারছেন।
মেয়র আবদুল কাদের মির্জাও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই। তিনি চেয়ারম্যান প্রার্থী ব্যবসায়ী গোলাম শরীফ চৌধুরী পিপুলকে (আনারস) সমর্থন দিয়ে ভাইসহ অন্যদের বিরোধিতা করে আসছেন।
এর আগে সকাল ১০টার দিকে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে তারা সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের বাড়ির সামনে অবস্থান নেন।
সেসয় শাহাদাত হোসেন বলেন, আমার কেন্দ্রে আমি নিজেই ভোট দিতে পারিনি। আমার ভাই আব্দুল কাদের মির্জার নেতৃত্বে ওনার ছেলে আমার ভাগিনারাসহ আমাদের এজেন্টদের কেন্দ্রেও ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। আমার কর্মী-সমর্থকদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছেন। কি ভোট করব এখানে? আব্দুল কাদের মির্জার নেতৃত্বে তারা কেন্দ্র থেকে সব লোক বের করে দিয়ে ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে সব ব্যালটে আনারসের সিল মেরে কমপ্লিট করেছে। আব্দুল কাদের মির্জা নিজে একজন মেয়র, উনি নিজেই কেন্দ্রে কেন্দ্রে আমাদের লোকদের বের করে দিয়ে ব্যালটে সিল মারা আদেশ দিয়েছেন, নিজেও মেরেছেন।
তিনি বলেন, আমরা প্রশাসনকে জানিয়েছে, তারা কোনো পদক্ষেপ নেননি। গতকাল রাত থেকে আমাদের কর্মী-সমর্থকদের উপর হামলা শুরু হয়েছে। আমাদের সমর্থকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। আমার এক কর্মীকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে। অনেক মানুষ ভয়ে ঘর থেকে বের হচ্ছেন না।
পুনরায় ভোটগ্রহণের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা দাবি জানাচ্ছি, এই ভোট বাতিল করে যেন পুনরায় তফসিল ঘোষণা করে ভোট নেয়া হয়। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও নির্বাচন কমিশনারের কাছে আবেদন জানাচ্ছি।
দোয়াত কলম প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী মিজানুর রহমান বাদল বলেন, এই উপজেলায় ভোটের পরিবেশ ভোটের আগেও ছিল না। আমরা স্বাধীনভাবে নির্বাচনী কর্মসূচি পালন করতে পারিনি। ভোটারদের কাছে যেতে পারিনি, ভোট চাইতে পারিনি। আমাদের অনেকভাবে বাধা দেয়া হয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে আমি রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কাছে কয়েকবার লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি। পুলশ সুপারের কাছেও অভিযোগ জানিয়েছে। কিন্তু এটার কোনো প্রতিকার পাইনি।
তিনি বলেন, সকালে আমার এজেন্টরা কেন্দ্রে যাওয়ার পর তাদের এজেন্ট ফরমগুলো নিয়ে ছিড়ে ফেলে দেয়া হয়েছে। আমার প্রত্যেক এজেন্টকে মারধর করা হয়েছে। এখন তারা সরাসরি ব্যালটে আনারস প্রতীকে সিল মারছে। আমি ওসি, ইএনও, ডিসি, এসপি সবাইকে জানিয়েছি। দুঃখের বিষয় এখনো কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না। কিছু কিছু কেন্দ্র থেকে অভিযোগ এসেছে আমাদের কর্মীদের পুলিশ দিয়ে পেটানো হচ্ছে। আনারস প্রতীকের সমর্থক ব্যতীত কোনো ব্যক্তিকে কেন্দ্রে থাকতে দেয়া হচ্ছে না। এ অবস্থায় আমরা ভোট মেনে নিতে পারছি না।
বাদল বলেন, এটা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তিনবারের সংগ্রামী সফল সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এলাকা। উনি একজন সফল মন্ত্রী। কোম্পানীগঞ্জে ভোটে অনিয়ম ওবায়দুল কাদেরের মান-সম্মানে আঘাত করছে। এই নির্বাচন বাতিল করে নতুন নির্বাচন দেয়ার দাবি জানাচ্ছি।
প্রসঙ্গত, ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদের তৃতীয় ধাপে নোয়াখালীর সদর, বেগমগঞ্জ ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় চলছে ভোটগ্রহণ। বুধবার (২৯ মে) সকাল ৮টায় তিনটি উপজেলার ৩৭ টি ইউনিয়নের ৩৫৭টি কেন্দ্রে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। তিনটি উপজেলায় ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে ১২ লাখ ৭ হাজার ৫৮২ জন। এদিকে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার জন্য পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। এতে উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ১৩ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১৩ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৯ জন প্রার্থী ভোটযুদ্ধে লড়ছেন।