অনলাইন ডেস্ক ১৮ এপ্রিল ২০২৪ , ৭:৪৯:০৪
গাইবান্ধা জেলা কারাগারের ভিতরে অবৈধ কার্যকলাপ দেখে ফেলায় এক নারী হাজতিকে শারীরিকভাবে নির্যাতন, শ্লীলতাহানি এবং মহিলা ইউনিটে পুরুষ ঢুকে মারপিটের অভিযোগ উঠেছে প্রধান কারারক্ষী আশরাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
বুধবার (১৭ এপ্রিল) রাতে অভিযোগের বিষয়টি জানাজানি হয়। এর আগে গত ১৬ এপ্রিল গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক বরাবর ভুক্তভোগীর মা মোছা. করিমন নেছা লিখিত একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী পাঁচ বছর ধরে গাইবান্ধা জেলা কারাগারে হাজতি হিসাবে রয়েছেন। যার হাজতি নং ৫০৮। ভুক্তভোগী ওই হাজতির মা লিখিত অভিযোগে বলেন, ‘জেলা কারাগারে কর্মরত প্রধান কারারক্ষী মো. আশরাফুল ইসলাম এবং নারী কয়েদির মধ্যে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অনৈতিক কার্যকলাপ করতে থাকলে আমার মেয়ে তা দেখে ফেলায় তার ওপর প্রধান কারারক্ষী আশরাফুল ও রাইটার মেঘলা ক্ষিপ্ত হন। দু’জনের অনৈতিক সম্পর্কের কথা কাউকে বললে আমার মেয়েকে মেরে ফেলে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে বলে চালিয়ে দেয়া হবে বলে হুমকি দেন।’
লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগীর মা আরও বলেন, ‘এর আগেও আশরাফুল ইসলাম আমার মেয়েকে বিভিন্ন সময়ে কারাগারের ভিতরে কুপ্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্তসহ হাত ও পরনের কাপড় ধরে টানাহেঁচড়া করে একাধিকবার শ্লীলতাহানি করেন। আমার মেয়েকে বিভিন্নভাবে প্রলোভন দেখিয়ে প্রলুব্ধ করতে থাকে।’
জেল সুপারকে বিচার দেয়ার কথা বললে আমার মেয়েকে প্রকাশ্যে আশরাফুল বলেন জেলার সাহেব তার লোক। সে নিজের টাকা খরচ করে জেলারকে বদলি করে নিয়ে এসেছেন। জেলার তার কোনো বিচার করতে পারবে না বলে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করেন।’
ভুক্তভোগীর মা মোছা. করিমননেছা লিখিত অভিযোগে আরও বলেন, ‘চলতি বছর ২০ মার্চ দুপুর বেলা আশরাফুলের নেতৃত্বে মহিলা কয়েদি মেঘলা খাতুন, রেহেনা, আলেফা এবং কারারক্ষী তহমিনা, শাবানারা পরিকল্পিতভাবে কারাগারের মহিলা ইউনিটের ভিতরের বারান্দায় লাঠি দিয়ে অতর্কিত আমার মেয়ের বুকে, পিঠে, মাথায়সহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় এলোপাতাড়ি মারপিট করে। এক পর্যায়ে আশরাফুল, সিআইডি আনিছ এবং হাবিলদার মোস্তফা কারাগারের মহিলা ইউনিটের ভিতরে ঢুকে আমার মেয়েকে টেনেহেঁচড়ে মহিলা ইউনিটের বারান্দা থেকে সেলের ভিতর নিয়ে যায়। আমার মেয়ের দুই হাত-পা হ্যান্ডক্যাপ ও রশি দিয়ে বেঁধে লাঠি দিয়ে দুই উরুর ও পায়ের পাতায় বেদম মারপিটসহ পরনের কাপড় টেনে ছিঁড়ে ফেলা বিবস্ত্র করা হয়। এ ঘটনা বাইরে প্রকাশ করলে মৃত্যুর হুমকি দেয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।’
অভিযুক্ত আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।
গাইবান্ধা জেল সুপার মো. জাবেদ মেহেদী বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর থেকে তাকে ওই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’