কাজী মোহাম্মদ ওমর ফারুক ৯ মার্চ ২০২৪ , ৬:২৭:০৯
গাজীপুরের কালীগঞ্জে দীর্ঘ এগার বছর পর অবৈধভাবে গড়ে উঠা পশুর হাটের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সরকার দলীয় প্রভাবশালী মহল ও জনপ্রতিনিধিরা উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের চুপাইর এলাকায় অবৈধ এ পশুর হাটটি বসিয়ে বছরের পর বছর ক্রেতা-বিক্রেতাদের কাছ থেকে খাজনার নামে লাখ লাখ টাকা আদায় করে নিজেদের পকেটস্থ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
জানা যায়, উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি মো. মাহবুবুর রহমান ফারুক মাষ্টারের তত্বাবধানে ২০১৪ সালে প্রশাসনের কোনরুপ অনুমতি ছাড়াই চুপাইর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গরুর হাট বসানো হয়। কিছুদিন পর স্কুল কর্তৃপক্ষের আপত্তির কারনে তাতী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি খগেন্দ্র দেবনাথের জমিতে সরিয়ে নেয় হাটটি। হাটের পরিসর বাড়াতে চুপাইর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে ৬২ শতাংশ জমিও নিজ নামে কিনেন সাবেক ওই ইউপি চেয়ারম্যান। পাশে থাকা সরকারী ৩০ শতাং খাস জমিও তার নজর এড়ায়নি। খাস জমিটিও সংযুক্ত করেন হাটের পরিধি বাড়াতে। জেলা ছাপিয়ে দেশ জুড়ে এ হাটের নাম ডাক ছড়িয়ে পরলে হাজার হাজার ক্রেতা বিক্রেতা তাদের গবাদী পশু কেনা-বেচার জন্য প্রতি বৃহস্পতিবার হাটটিতে আসেন। ফলে পশু ধারনের স্থান সংকুলান না হওয়ায় পূরনায় পাশে আরোও দুই বিঘা জমি ভাড়া নেয় ওই প্রভাবশালী মহল ও জনপ্রতিনিধিরা। গরুর হাটের ক্রেতা বিক্রেতাদের কাছ থেকে খাজনার নামে চলছিল কাচা টাকা কামানো। বর্তমানে প্রায় ছয় বিঘা জমির উপর গরুর হাটটি প্রতি বৃহস্পতিবার বসে। এখন হাটে গরু- ছাগলের পাশাপাশি হাঁস,মুরগি ও কবুতরসহ অন্যান্য গৃহপালিত প্রাণী বেচা কেনা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক বিশিষ্টজনরা জানান, হাট বসার শুরু হতেই জামালপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক মাষ্টার হাটের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি ইউপি নির্বাচনে হেরে গেলে হাটের দায়িত্ব নেয় কেন্দ্রীয় তাতী লীগের সভাপতি খগেন্দ্র দেবনাথ ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি এস এম আলমগীর।
দীর্ঘ প্রায় এগার বছর পর উপজেলা প্রশাসন হাটটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে খাজনা আদায় শুরু করে। আদায় করা টাকা প্রশাসন রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে শুরু করলে জনমনে প্রশ্ন উঠে ইজারার টাকা আগে কোথায় যেত? স্থানীয়রা জানায়, অবৈধভাবে এ হাট বসিয়ে ঐ প্রভাবশালী মহলটি গত এগার বছরে সরকারের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মো. মাহবুবুর রহমান ফারুক মাষ্টার মুঠোফোনে জানান, এখানে পশু কেনাবেচা করা যেতে পারে ভেবে স্থানীয়দের একত্রিত করে হাট বসিয়ে এলাকার বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করি। হাটের নামে জমি কিনেছি। মিছিল,মিটিং,আ’লীগের সভা-সমাবেশসহ দলের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ইজারার টাকা ব্যয় করা হতো। তিনি আরোও বলেন, ২০২১ সালে ইউপি নির্বাচনে তার পরাজয়ের পর হাটের নিয়ন্ত্রণ নেয় তাতী লীগের সভাপতি খগেন্দ্র দেবনাথ ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি এস এম আলমগীর হোসেন। তারাই নিজেদের মাঝে ভাগভাটোয়ারা করে নেয় হাটের ইজারার টাকা।
প্রশাসনের অনুমোদন ছাড়া পশুর হাট বসানোর বিষয়ে জানতে চাইলে জামালপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান খায়রুল আলম বলেন, তিনি সেখানে কোনো হাট বসাননি বা ইজারার টাকার ভাগ নেন নি।
গত সংসদ নির্বাচনে আ’লীগের মনোনিত প্রার্থী মেহের আফরোজ চুমকি হেরে গেলে গরুর হাটটির নিয়ন্ত্রণ নেয় উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা প্রশাসন জানায়, খাস কালেকশন শুরু করার পর স্থানীয় ঐ প্রভাবশালী মহলটি হাটে পশু পরিবহনে বাধা সৃষ্টি করছে এবং ব্যাবসায়ীদের ভয় ভীতি দেখাচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আজিজুর রহমান প্রতিবেদককে জানান, প্রতি মাসে গড়ে দশ লক্ষাধিক টাকা খাস কালেকশন হচ্ছে। হাটের সুষ্ঠ ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। হাটটি সরকারীভাবে ইজারা দেয়ার আগ পর্যন্ত প্রশাসনের মাধ্যমে খাস কালেকশন অব্যাহত থাকবে। বর্তমানে আদায়কৃত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হচ্ছে। আগামী বাংলা সনের জন্য ইজারা কার্যক্রম গ্রহন করা হয়েছে।