মো. রিয়াদ হোসাইন ২০ মার্চ ২০২৪ , ৪:৪৫:০৯
গাজীপুরের কালীগঞ্জে আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাপ শুরু হয়েছে। এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রার্থীদের কেউ কেউ দেয়ালে দেয়ালে রঙ্গীন পোষ্টার সাটিয়ে জানান দিচ্ছেন নিজেদের অবস্থান। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে নিজেদের প্রচারনার মাধ্যম হিসেবে ব্যাবহার করছেন। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সর্বত্রই এখন আলোচনা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে। কে প্রার্থী হচ্ছেন, কার জনপ্রিয়তা কেমন, অতীতে কে কেমন কাজ করেছেন-চলছে এসবের চুলচেড়া বিশ্লেষণ। যেহেতু এবারের নির্বাচনে থাকছেনা দলীয় মনোয়ন, তাই প্রার্থীরা নিজ নিজ বলয়ের নেতাকর্মীদের সাথে রাখছেন সার্বক্ষনিক যোগাযোগ। ধারণা করা হচ্ছে সাবেক এবং বর্তমান দুই সংসদ সদস্যের মনোনীত প্রার্থীরাই ভোটের মাঠে প্রভাব বিস্তার করবেন।
এখন পর্যন্ত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসাবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন- উপজেলা আওয়ামীলিগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবীব, বর্তমান চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা মোয়াজ্জেম হোসেন পলাশ, জেলা আওয়ামীলিগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. আশরাফী মেহেদী হাসান, উপজেলা আওয়ামীলিগের সহ-সভাপতি এস এম নজরুল ইসলাম, সাবেক ভাইস-চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন স্বপন এবং জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান খান লাভলু।
যেহেতু এবারও বিএনপি নির্বাচনে না আসার ঘোষণা দিয়েছে সেহেতু বিরোধী দলের একাংশকে প্রার্থীরা তাদের কাছে টানতে ব্যাস্ত। তবে বিএনপি যদি নির্বাচনে কাউকে অংশগ্রহণ করার অনুমতি দেয় তাহলে মনিরুজ্জামান খান লাভলু নির্বাচন করবেন। একই ভাবে মোয়াজ্জেম হোসেন পলাশ, এস এম নজরুল ইসলাম ও যদি আওয়ামীলীগ থেকে সবুজ সংকেত পান তবেই নির্বাচন করবেন।
জানা গেছে, প্রচার এবং প্রচারণার দিক থেকে হাবিবুর রহমান হাবীব অন্যদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। তিনি প্রায় গত ১ মাস আগে থেকে জনসংযোগের পাশাপাশি প্রচারণার মাধ্যম হিসেবে পোষ্টার দিয়ে জানান দিয়েছিলেন তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছেন।
ভাইস চেয়ারম্যান পদে একমাত্র কালীগঞ্জ কল্যাণ সমিতির সভাপতি মাওলানা মাহমুদুল হাসানের নাম শোন গেলেও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে লড়বেন বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শর্মীলা রোজারিও, উপজেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি জুয়েনা আহমেদ এবং সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শর্মিলী দাস মিলি।
এদিকে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এ্যাড. আশরাফী মেহেদী হাসানের নাম ঘটা করে শোনা যাচ্ছে। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে বিজয়ী বর্তমান সাংসদের পক্ষে হওয়ায় বিভিন্ন মিটিং মিছিলে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করছেন। পাশাপাশি নেতা-কর্মীদেরও তার হয়ে কাজ করার জন্য অনুরোধ করে যাচ্ছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
অপর প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবীব উপজেলার সর্বত্র দেয়ালে দেয়ালে পোষ্টার সাটিয়েছেন। নির্বাচনে তিনি শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ মনোনীত সাবেক এমপির আনুকূল্য পাওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। ধারণা করা হচ্ছে সাবেক এমপি মেহের আফরোজ চুমকির খুব ঘনিষ্ট হওয়ায় দলীয় মনোয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে তার অগ্রাধিকার বেশি থাকবে।
নির্বাচনে অংশগ্রহণের ব্যাপারে হাবিবুর রহমান হাবীব বলেন, আমি সারাজীবন আওয়ামীলীগের জন্য কাজ করে গেছি। দলের প্রতি আমার যথেষ্ট আস্থা রয়েছে। তাই দল আমাকে সম্মতি দিলে আমি অবশ্যই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো। ইতিমধ্যে আমি গণসংযোগ শুরু করে দিয়েছি। প্রতিটি অঞ্চল চষে বেড়াচ্ছি। ভোটারদের খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করছি এবং তাদের অভাব অভিযোগ গুলো শুনছি। যদি নির্বাচিত হই তবে সেসব নিয়ে কাজ করবো।
এ্যাড. আশরাফী মেহেদী হাসান বলেন, আমি একবার ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলাম, তার পাশাপাশি সেই ছাত্রজীবন থেকে দলের সাথে সম্পৃক্ত। উপজেলা থেকে এখন জেলার দায়িত্ব পালন করছি। কোথাও কখনও অন্যায়কে সমর্থন করিনি। তাই আশা করছি ভোটাররা তাদের পছন্দের তালিকায় আমাকেই রাখবেন।
মনিরুজ্জামান খাঁন লাভলু জানান, তাঁর দল বিএনপি যদি অনুমতি দেয় তাহলে তিনি ভোটের মাঠে লড়বেন। সিদ্ধান্ত আসার আগ পর্যন্ত তিনি নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাবেন।
উল্লেখ্য উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ না করায় বিএনপি প্রার্থীর প্রচারণা নেই বললেই চলে। বিএনপি’র তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মধ্যেও উপজেলা নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের আগ্রহ প্রকাশ করতে দেখা যায়নি। তবে উপজেলা নির্বাচন নিয়ে হাট-বাজার, চায়ের দোকান, পাড়া-মহল্লায় আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নামের পাশাপাশি বিএনপি ও তার শরীকদলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়েও আলোচনা করছেন সাধারণ ভোটাররা।