মো. রিয়াদ হোসাইন ২০ মার্চ ২০২৪ , ৪:২৮:৩২
গাজীপুরের কালীগঞ্জে ইরাক প্রবাসী মো. লাবু মিয়া (৩৫) কে অপহরণ করে মুক্তিপন দাবি করে অপহরণকারীরা। এই ঘটনায় প্রবাসীর বড় ভাই থানায় অভিযোগ করলে ঘটনার ২৪ ঘন্টার মধ্যে অপহৃতকে উদ্ধারসহ তিনজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় কালীগঞ্জ থানা পুলিশ।
ভুক্তভোগী প্রবাসী মো. লাবু মিয়া টাঙ্গাইল নাগরপুরের গুহুলি এলাকার মো.আমিনুর রহমানের ছেলে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহাতাব উদ্দিন।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন নরসিংদী জেলার শিবপুর উপজেলার হামুরদিয়া গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের দুই ছেলে মো.দুলাল মিয়া, নাসিরউদ্দিন ও মেয়ে রাবেয়া বেগম। ঘটনায় জড়িত অপহরণকারী তিন ভাইবোনকে বুধবার দুপুরে গাজীপুর আদালতে প্রেরণ করে থানা পুলিশ।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, লাবু মিয়া দীর্ঘদিন যাবত ইরাকে কর্মরত আছেন। গত ১৭ মার্চ রোববার সে ছুটিতে দেশে আসলে প্রবাসে তার সহকর্মী হাসান মিয়া তাকে কিছু মালামাল দিয়ে তার বোন রাবেয়াকে বুঝিয়ে দিতে বলেন। সেই সুবাধে তাঁর বন্ধুর বোন রাবেয়ার মালামাল নিয়ে বিমানবন্দর থেকে কালীগঞ্জ বাজার আসেন। সেখান থেকে রাবেয়ার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে ফোন দিলে মালামাল কোথায় রাখবো বললে রাবেয়া জানান আমি আসতেছি আপনি পাইলট স্কুল মাঠে থাকেন। তার কিছুক্ষণ পরেই লাবু মিয়া কিছু বুঝে উঠার আগেই রাবেয়া তার সহযোগী ৭/৮ জন নিয়ে অস্ত্রের মুখে তাকে জিম্মি করে। পরে তার গাড়িতে থাকা স্বর্ণালংকারসহ চার লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুটে তাকে হাইএস গাড়িতে তুলে নরসিংদীর একটি নিরব স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে তাকে শিকল দিয়ে হাত-পা বেঁধে বেড়ধক মারধর করে। এরপর ১৮ মার্চ সোমবার সকাল সাড়ে এগারোটার দিকে অপহরণকারীরা ভিকটিমের বাবার মোবাইলে ফোন করে ১০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। তাদের দাবিকৃত টাকা না দিলে এবং পুলিশ প্রশাসনসহ কাউকে অবগত করলে তাকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি প্রদান করে অপহরণকারীরা।
ওসি মাহাতাব উদ্দিন বলেন, ইরাক প্রবাসী মো. লাবু মিয়া তাঁর বন্ধুর দেয়া মালামাল রাবেয়ার কাছে পৌছে দেয়ার জন্য কালীগঞ্জে আসলে তাকে ফিল্মি স্টাইলে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এই বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর গাজীপুরের পুলিশ সুপার কাজী সফিকুল আলম ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) উখিং মে এর নির্দেশনায় মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে নরসিংদীর শিবপুর থানার হামুরদিয়া এলাকার উল্লেখিত অপহরণকারীর বাড়ি থেকে শিকল বাঁধা আহত অবস্থায় ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করেন। পরে ভুক্তভোগীকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
তিনি আরো বলেন, এ ঘটনায় ভিকটিমের ছোট ভাই বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে থানার ইন্সপেক্টর (অপারেশন) মো. রাজীব হোসেন ও তার সঙ্গীয় ফোর্সসহ প্রযুক্তির সহযোগীতায় ২৪ ঘন্টার মধ্যে ১৮ মার্চ দিবাগত ভোর রাত ৩টার দিকে ভুক্তভোগী ইরাক প্রবাসী লাবু মিয়াকে পায়ে শিকল বাধা অবস্থায় উদ্ধারসহ ঘটনায় জড়িত দুলাল, নাসির ও রাবেয়াকে নরসিংদীর শিবপুর থেকে গ্রেফতার করে। এছাড়াও আসামীদের কাছ থেকে লুন্ঠিত মালামালের কিছু অংশ উদ্ধার করা হয়। দুপুরে গ্রেফতারকৃত আসামীদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। পাশাপাশাশি এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামীদেরকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে বলেও জানান পুলিশের ওই র্কর্মকর্তা।