অনলাইন ডেস্ক ২৯ মে ২০২৪ , ২:৫৪:৫৯
মানুষকে সত্য, সুন্দর ও সঠিক পথ দেখানোর জন্য মহান আল্লাহ যুগে যুগে অসংখ্য নবী-রসুল পাঠিয়েছেন। এসব নবী-রসুলের গাইডবুক হিসেবে কিতাব দিয়েছেন। এসব কিতাবের মধ্যে সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ কিতাব হচ্ছে আল-কোরআন। কোরআনের শিক্ষা ও নির্দেশনা অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা প্রতিটি মুমিনের জন্য আবশ্যক।
কোরআনের শিক্ষা ও নির্দেশনা অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা জরুরি। কোরআন এসেছে মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে যাওয়ার জন্য।
ঈমান আনা
মহান আল্লাহর ওপর ঈমান আনা। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লঅহ বলেন,
اَفَتُؤۡمِنُوۡنَ بِبَعۡضِ الۡکِتٰبِ وَ تَکۡفُرُوۡنَ بِبَعۡضٍ ۚ فَمَا جَزَآءُ مَنۡ یَّفۡعَلُ ذٰلِکَ مِنۡکُمۡ اِلَّا خِزۡیٌ فِی الۡحَیٰوۃِ الدُّنۡیَا ۚ وَ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ یُرَدُّوۡنَ اِلٰۤی اَشَدِّ الۡعَذَابِ ؕ وَ مَا اللّٰهُ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعۡمَلُوۡنَ
অর্থ: তবে কি তোমরা কিতাবের কিছু অংশে ঈমান রাখো, আর কিছু অংশ অস্বীকার করো? সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা তা করে দুনিয়ার জীবনে লাঞ্ছনা ছাড়া তাদের কী প্রতিদান হতে পারে! আর কিয়ামতের দিন তাদের কঠিন আজাবে নিক্ষেপ করা হবে। তোমরা যা করো, আল্লাহ সে সম্পর্কে গাফিল নন। (সুরা বাকারা, আয়াত : ৮৫)
রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ গ্রহণ করা। মহান আল্লাহ বলেন,
لَقَدۡ کَانَ لَکُمۡ فِیۡ رَسُوۡلِ اللّٰهِ اُسۡوَۃٌ حَسَنَۃٌ لِّمَنۡ کَانَ یَرۡجُوا اللّٰهَ وَ الۡیَوۡمَ الۡاٰخِرَ وَ ذَکَرَ اللّٰهَ کَثِیۡرًا
অর্থ: অবশ্যই তোমাদের জন্য রয়েছে রসুলুল্লাহর মধ্যে উত্তম আদর্শ, তার জন্য যে আশা রাখে আল্লাহ ও শেষ দিনের এবং আল্লাহকে বেশি স্মরণ করে। (সুরা আহযাব, আয়াত: ২১)
মহান আল্লাহ বলেন,
وَ رَتِّلِ الۡقُرۡاٰنَ تَرۡتِیۡلًا
অর্থ: আর কুরআন তিলাওয়াত করুন ধীরে ধীরে সুস্পষ্টভাবে। (সুরা মুজ্জাম্মিল, আয়াত : ৪)
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
مَنْ قَرَأَ الْقُرْاٰنَ فَاسْتَظْهَرَهٗ فَاَحَلَّ حَلَالَهٗ وَحَرَّمَ حَرَامَهٗ اَدْخَلَهُ اللهُ الْجَنَّةَ وَشَفَّعَهُ فِىْ عَشَرَةٍ مِّنْ اَهْلِ بَيْتِهِ كُلُّهُمْ قَدْ وَجَبَتْ لَهٗ النَّارَ
অর্থ: যে ব্যক্তি কোরআন শরিফ পড়বে এবং তা হিফজ করবে এবং তার হালালকৃতকে হালাল ও হারামকৃতকে হারাম জেনে চলবে, (অর্থাৎ, কোরআনের খেলাফ যেন কোনো আকিদা না হয়। উপরে আমলের কথা বলা হয়েছিল, এখানে আকিদার কথা বলা হলো।) আল্লাহ তাকে বেহেশতে স্থান দেবেন এবং তার আত্মীয়বর্গের মধ্য হতে দশজন লোকের জন্য তার সুপারিশ গ্রহণ করবেন যাদের জন্য দোজখ সাব্যস্ত হয়ে ছিল। (তিরমিজি)
কোরআন মানুষের জন্য হেদায়েত। নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে কোরআন শিখে এবং শিক্ষা দেয় উভয়কে সর্বোত্তম বলে আখ্যা দিয়েছেন। হযরত উসমান (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
خَيْرُكُمْ مَنْ تَعَلَّمَ الْقُرْاٰنَ وَعَلَّمَهٗ
তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি সেই যে নিজে কোরআন শিক্ষা করে ও অপরকে শিক্ষা দেয়। (বুখারি: ৫০২৭)
মুসলিম শরিফে আছে,
اَفَلَا يَغْدُوْا اَحَدُكُمْ اِلٰى الْمَسْجِدِ فَيَتَعَلَّمُ مِنْ كِتَابِ اللهِ اٰيَتَيْنِ خَيْرٌ لَّهُ مِنْ نَاقَتَيْنِ وَثَلَاثٌ خَيْرٌلَّهُ مِنْ ثَلِاثٍ وَاَرْبَعٌ خَيْرٌلَّهُ مِنْ اَرْبَعٍ وَمِنْ اَعْدَادِهِنَّ مِنَ الْاِبِلِ
তোমাদের কেউ কেন সকালে মসজিদে গিয়ে আল্লাহর কোরআন হতে দুটি আয়াত পড়ে না বা শিক্ষা দেয় না? তাহলে সেটি তার জন্য দুটি উট লাভ করার চেয়ে উত্তম হবে। তিনটি আয়াত তিনটি উট অপেক্ষা উত্তম। চারটি আয়ত চার উট অপেক্ষা উত্তম। অনুরূপ আয়াতের সংখ্যা অনুপাতে উটের সংখ্যা অপেক্ষা উত্তম। (সহিহ মুসলিম: ১৩৩৬)
ইসলাম নির্দেশ দেয় সর্বাত্মক চেষ্টা করে হলেও সমতার এবং ন্যায়বিচারের। সমাজ, রাষ্ট্র এবং ব্যক্তি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সঠিক বিচার ও ফায়সালা করাই কোরআনের নির্দেশনা।
হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা ন্যায়বিচারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ থাকো, তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে সাক্ষ্য দাও; যদিও তা তোমাদের নিজেদের অথবা পিতা-মাতা এবং আত্মীয়-স্বজনের বিরুদ্ধে হয়। সে বিত্তবান হোক অথবা বিত্তহীনই হোক, আল্লাহ উভয়েরই যোগ্যতর অভিভাবক। সুতরাং তোমরা ন্যায়বিচার করতে খেয়ালখুশির অনুগামী হয়ো না। যদি তোমরা প্যাঁচালো কথা বলো অথবা পাশ কেটে চলো, তাহলে (জেনে রাখো) তোমরা যা করো আল্লাহ তার খবর রাখেন। (সুরা নিসা, আয়াত: ১৩৫)