অনলাইন ডেস্ক ৩ এপ্রিল ২০২৪ , ২:১১:০৬
জাকাত ইসলামের মূল পাঁচটি স্তম্ভের একটি স্তম্ভ। আল্লাহ তা’আলা মুসলমানদের উপর জাকাতকে ফরজ করেছেন। আল্লাহ তা‘আলার এরশাদ করেছেন ‘নামাজ কায়েম কর ও জাকাত আদায় কর।’ (আল-বাকারা: ১১০)
হযরত ইবনে আব্বাস রা. হতে বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুআয রা. কে ইয়ামান দেশে (শাসক হিসেবে) প্রেরণ করেন। অতঃপর বললেন, সেখানকার অধিবাসীদেরকে এ সাক্ষ্য দানের প্রতি আহবান করবে যে, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন উপাস্য নেই এবং আমি আল্লাহর রসুল। যদি তারা তা মেনে নেয় তবে তাদেরকে অবগত কর যে, আল্লাহ তাআলা তাদের উপর প্রতি দিনে ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছেন।
যদি সেটাও তারা মেনে নেয় তবে তাদেরকে অবগত কর যে, আল্লাহ তাআলা তাদের উপর তাদের সম্পদের মধ্য থেকে সাদাকা (জাকাত) ফরজ করেছেন। যেটা ধনীদের নিকট থেকে গৃহীত হবে আর দরিদ্রদের মাঝে প্রদান করা হবে। (বুখারী:১৪৫৮)
ইসলামের এই মহান হুকুম পালনের ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধ আছে। যেগুলোর প্রতি লক্ষ না করলে জাকাত আদায় হয় না। তন্মধ্যে একটি হলো, যোগ্য ব্যক্তিকে জাকাত প্রদান করা। ইসলাম এক্ষেত্রে কিছু ব্যক্তি নির্ধারণ করে দিয়েছে। জাকাত পাওয়ার উপযুক্ত হওয়া সত্ত্বেও তাদেরকে জাকাত দেওয়া বৈধ নয়। তাদের মধ্যে কেউ কেউ জাকাতদাতার ঘনিষ্ঠ ও রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়। আজ আমরা তাদের সম্পর্কে জানবো।
জাকাতদাতা নিজের যেসকল আত্মীয়কে জাকাত দিতে পারবে না
১. জাকাতদাতার সরাসরি উর্ধ্বতন যেমন-পিতা-মাতা, দাদা-দাদি, নানা-নানি উপরের দিকে যারা আছে। ২. অধস্তন যেমন-পুত্র-কন্যা, পৌত্র-পৌত্রী, দোহিত্র-দোহিত্রী, এভাবে নীচের দিকের কেউ জাকাত নিতে পারবে না। ৩. স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে জাকাত দিতে পারবে না।
এ ছাড়া অন্যান্য আত্মীয়-স্বজন যেমন, ভাই-বোন, চাচা-চাচি, মামা-মামি, খালা-খালু, ফুফা-ফুফু ইত্যাদি জাকাত পাওয়ার উপযুক্ত দরিদ্র হলে তাদেরকে জাকাত দেওয়া যাবে। এতে কোনো অসুবিধা নেই। বরং নিজের অভাবী আত্মীয়দেরকে জাকাত প্রদানে বিশেষ ফজিলত আছে। এতে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা ছাড়াও দুনিয়া ও আখেরাতের বিবিধ কল্যাণ লাভ হয়।
সূত্র : সুনানে বায়হাকী ৭/২৮; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৬৭; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/২০৬-২০৭; বাদায়েউস সানায়ে ২/১৬২; আদ্দুররুল মুখতার ১/৪২৬