অনলাইন ডেস্ক ১৮ মার্চ ২০২৪ , ৯:০৯:৫৯
পাঁচ দিনের ব্যবধানে পাবনার সুজানগর ও সাঁথিয়ার পাইকারি বাজারে পিঁয়াজের দাম কমেছে প্রায় অর্ধেক। রবিবার ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকা মণের পিঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায়।
সাঁথিয়া উপজেলার আতাইকুলা হাটেও মিলেছে একই চিত্র। রবিবার এ হাটে প্রতি মণ পিঁয়াজ দেড় হাজার থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। দাম না পেয়ে অনেক কৃষক হতাশ হয়ে বিক্রির জন্য আনা পিঁয়াজ নিয়ে বাড়িতে ফিরে গেছেন।কৃষক ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী রমজান মাসে বেশি দামে বিক্রির আশায় পিঁয়াজ মজুত করেছিলেন। সেই পিঁয়াজ এখন বাজারে এসেছে। আবার কৃষকেরাও নতুন পিঁয়াজ বাজারে বিক্রির জন্য তুলতে শুরু করেছেন। তাতে বাজারে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় এই দরপতন ঘটেছে।
জানা যায়, সুজানগর উপজেলা সদরে প্রতি রবিবার ও বুধবার পাইকারি পিঁয়াজের হাট বসে। গত বুধবার এই হাটে প্রতি মণ পিঁয়াজ ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হয়। এর পর থেকেই পিঁয়াজের দাম কমতে শুরু করেছে। রবিবার এই হাটে প্রতি মণ পিঁয়াজ ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হয়। দাম কমে যাওয়ায় বহু কৃষক পিঁয়াজ বিক্রি না করে বাড়িতে ফিরে গেছেন।
সুজানগর হাটের পাইকার আবদুল আজিজ বিশ্বাস বলেন, রমজানের শুরুতে বাজারে পিঁয়াজের আমদানি কম ছিল। তাতে বেশি দামের আশায় অনেকে পিঁয়াজ মজুত করেছিলেন। রমজান শুরুর পর থেকেই মজুত পিঁয়াজ বাজারে আসতে শুরু করে। অন্যদিকে কৃষকেরাও বেশি দামের আশায় অপরিপক্ব পিঁয়াজ হাটে তুলেছেন। তাতে দরপতন ঘটে।
পাবনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ওই জেলায় দুই জাতের পিঁয়াজের আবাদ হয়। একটি মুড়িকাটা জাতের আগাম পিঁয়াজ, অপরটি হালি পিঁয়াজ। চলতি মৌসুমে ৯ হাজার ৭৬৫ হেক্টর জমিতে মুড়িকাটা জাতের পিঁয়াজের আবাদ হয়েছিল। উৎপাদন হয়েছে ১ লাখ ১৮ হাজার ৮৮৮ মেট্রিক টন। এ পিঁয়াজ ইতিমধ্যেই বিক্রি হয়ে গেছে। অন্যদিকে হালি পিঁয়াজের আবাদ হয়েছে ৫৩ হাজার ২৭৫ হেক্টর জমিতে। বর্তমানে এই পিঁয়াজ বাজারে আসছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন।
দাম কমে যাওয়ায় দুই উপজেলার পিঁয়াজ চাষীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। দাম আরও কমে গেলে লোকসানের আশঙ্কা করছেন তারা।