অনলাইন ডেস্ক ২০ মার্চ ২০২৪ , ৩:১৭:১৮
দেশের মধ্যে পিয়াজ উৎপাদনে তৃতীয় রাজবাড়ী জেলা। বর্তমানে রাজবাড়ীর বিভিন্ন বাজারে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা মণ পিয়াজ বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে পিয়াজের দাম ছিল ২ হাজার ৫ শত টাকা মণ। স্থানীয় কৃষকেরা বলেছেন, দুটি কারণে পিয়াজের দাম কমতে শুরু করেছে। ভরা মৌসুম ও ভারত থেকে পিয়াজ আমদানির কারণে দাম কমেছে।
আজ বুধবার সকালে রাজবাড়ী সদরের মাশালিয়া ও বালিয়াকান্দি উপজেলার হাতিমোহন মাঠে গিয়ে দেখা যায় বর্তমানে হালি পিয়াজ তোলার ব্যস্ত কৃষকেরা। জেলায় মুড়িকাটা ও হালি পিয়াজ উৎপাদন হয়। ১০ দিন আগেই মুড়িকাটা পিয়াজ তোলা শেষ হয়ে গেছে। বর্তমানে হালি পিয়াজ তুলছেন কৃষকেরা। বেশি দামের আশায় বেশ কয়েকজন কৃষক অপরিপক্ক পিয়াজ তুলছেন কৃষকেরা। আগামীতে আরও দাম কমে যেতে পারে সেই শঙ্কায় তারা পিয়াজ তুলছেন। এসব পিয়াজ মাঠ থেকে সোজা হাটে বিক্রি করা হচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রাজবাড়ীতে চলতি মৌসুমে ৩৬ হাজার হেক্টর জমিতে হালি পিয়াজ আবাদ হয়েছে। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৭০ হাজার মেট্রিকটন। এখন পর্যন্ত রাজবাড়ীর মাঠ থেকে ৩০ শতাংশ পিয়াজ তোলা হয়েছে।রাজবাড়ী সদর উপজেলার মূলঘর ইউনিয়নের মাঠে পিয়াজ তুলছিলেন ভজন কুমার বিশ্বাস। তিনি বলেন, পিয়াজের ভরা মৌসুমে ভারত থেকে আমদানি করায় দাম কমেছে। এই সময় আমদানি করা ঠিক হয়নি। পিয়াজের উৎপাদন খরচ অনেক বেড়েছে। আমাদের এদিকে ২৫ শতাংশ জমিতে এক পাখি ধরা হয়। ২৫ শতাংশ জমিতে পিয়াজ উৎপাদনে প্রায় ৩৫ হাজার খরচ হয়। প্রতি মণ পিয়াজ ২ হাজার টাকার নিচে আসলে কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে দাবি তার।
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার পিয়াজ ব্যবসায়ী তৈয়ব আলী মন্ডল বলেন, সকাল থেকে আমরা কৃষকদের কাছ থেকে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা প্রতিমণ পিয়াজ ক্রয় করছি। গতকাল মঙ্গলবার জামালপুর হাটে আসা কৃষকদের কাছ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা থেকে ২০০০ টাকা প্রতি মণ পিয়াজ ক্রয় করেছি। একদিনের ব্যবধানে দাম আবার বেড়েছে। বৃষ্টির কারণে এই দাম বৃদ্ধি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, রাজবাড়ীতে এ বছর পিয়াজের ভালো ফলন হয়েছে। ভরা মৌসুম হওয়ার কারণে দাম কিছুটা কম। এতে কৃষকেরা পরিপক্ক পিয়াজ জমি থেকে তুলবেন। বাজারে আগের দাম (প্রতি মণ ২৮০০) টাকা থাকলে কৃষকেরা জমি থেকে অপরিপক্ক সব পিয়াজ তুলে বাজারে বিক্রি করতেন। তাছাড়া সিন্ডিকেট মোকাবেলা ও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকার জন্য পিয়াজ আমদানি করা হয়েছে।