অনলাইন ডেস্ক ১৬ এপ্রিল ২০২৪ , ১২:৫২:১১
বঙ্গবাজার মার্কেটের নির্মাণ কাজ শুরু করতে অস্থায়ীভাবে গড়ে উঠা অবৈধ দোকানগুলো ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। স্থানটি পরিষ্কার করে শিগগিরই ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হবে।
মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) বঙ্গবাজার এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ভেঙ্গে ফেলা অস্থায়ী দোকানের আসবাবপত্র ও কাঠসহ অন্যান্য জিনিস সরানোর কাজ করছেন ব্যবসায়ীরা। এর আগে, সোমবার (১৫ এপ্রিল) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সম্পত্তি বিভাগের উদ্যোগে অস্থায়ী দোকানগুলো ভেঙ্গে ফেলা হয়।
ব্যবসায়ীরা জানান, ভবন নির্মাণের জন্য দোকানগুলো ভাঙা হয়েছে। এখানে দ্রুত বড় ভবন তৈরি হবে।
তৌহিদুল হক নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, গত বছরের ৪ এপ্রিল আগুন লেগে পুড়ে যায় বঙ্গবাজারের ব্যবসায়ীদের স্বপ্ন। এরপর অস্থায়ী দোকান নির্মাণ করে এতোদিন ব্যবসা চলছিল। তবে এখন ভবন নিমার্ণের কাজ শুরু হচ্ছে। শিগগিরই স্থায়ী ঠিকানা পাবেন ব্যবসায়ীরা।
মার্কেট নির্মাণ কাজ শেষ করে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মধ্যে বরাদ্দ দেয়ার দাবি জানিয়ে সাব্বির হোসেন নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদেরকেই বঙ্গবাজারের দোকান বরাদ্দ দিতে হবে; বাইরের কাউকে নয়।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবু নাছের বলেন, বঙ্গবাজারে মার্কেট নির্মাণের জন্য ঈদের আগেই ব্যবসায়ীদের নোটিশ দেয়া হয়েছিল। এটি নির্মাণ করবে ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড (এনডিই) নামের একটি প্রতিষ্ঠান। তারা কাজও শুরু করেছে।
এনডিই ম্যানেজার মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, এরই মধ্যে মার্কেট নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে গেছে। আপাতত অস্থায়ী দোকান সরানোর কাজ চলছে।
যত দ্রুত সম্ভব ভবন নির্মাণের কাজে হাত দেয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, গত বছর আগুনে পুড়ে যায় ঐতিহ্যবাহী এই মার্কেটটি। ব্যবসায়ীদের স্থায়ী জায়গা করে দিতেই মার্কেট নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সিটি করপোরেশনের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ চলছে।
ডিএসসিসি সূত্রে জানা যায়, বঙ্গবাজারের নাম পরিবর্তন করে রাখা হচ্ছে বঙ্গবাজার পাইকারি নগর বিপণি বিতান। ১০ তলা বিশিষ্ট ভবনের গ্রাউন্ড ফ্লোর ও বেজমেন্ট ছাড়াও থাকবে মোট ৮টি ফ্লোর। ১.৭৯ একর জায়গার ওপর নির্মিত হতে যাওয়া এ বহুতল ভবনে থাকবে তিন হাজার ৪২টি দোকান। প্রতিটি দোকানের আয়তন হবে ৮০ থেকে ১০০ স্কয়ার ফুট। ভবনটিতে থাকবে ৮টি লিফট, এর মধ্যে ৪টি থাকবে ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য; আর বাকি ৪টি কার্গো লিফট থাকবে মালামাল উঠানো-নামানোর জন্য।
এছাড়া থাকছে গাড়ি পার্কিং, খাবারের দোকান, সমিতির অফিস, নিরাপত্তাকর্মী এবং সেখানকার কর্মীদের আবাসন ব্যবস্থা। ভবনটি নির্মাণে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৩৮ কোটি টাকা।