অনলাইন ডেস্ক ২৪ মার্চ ২০২৪ , ৯:১৭:৩৭
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেইনি ও শিক্ষানবিশ চিকিৎসকরা চার দফা দাবিতে কর্মবিরতি পালন করেছেন। রবিবার দুপুরে দ্বিতীয় দিনের মত চমেক হাসপাতালের মূল ফটকের সামনে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসাবে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেইনি ও ইন্টার্ন চিকিৎসকরা যৌথভাবে কর্মসূচি পালন করেন। কর্মবিরতি সোমবার দুপুর ২টা পর্যন্ত চলবে।
বর্তমানে চমেক হাসপাতালে ইন্টার্নি চিকিৎসক আছেন ২৫০ জন এবং পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেইনি চিকিৎসক আছেন প্রায় ৭০ জন। বর্তমানে পোস্ট গ্রাজুয়েট ট্রেইনি চিকিৎসকের ভাতা ২৫ হাজার এবং ইন্টার্ন চিকিৎসকের ভাতা ১৫ হাজার টাকা।চিকিৎসকদের চার দফা দাবির মধ্যে আছে, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বেতন ৩০ হাজার টাকা এবং পোস্ট গ্র্যাজুয়েট প্রাইভেট ট্রেইনি চিকিৎসকদের বেতন বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করা, পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেইনি চিকিৎসকদের (এফসিপিএস, রেসিডেন্ট ও নন রেসিডেন্ট) বকেয়া ভাতা প্রদান করা, ১২টি প্রাইভেট ইনস্টিটিউটের নন-রেসিডেন্ট ও রেসিডেন্টদের আকস্মিক ভাতা বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার পূর্বক ভাতা পুনর্বহাল করা এবং চিকিৎসক সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করা।
চমেক হাসপাতাল ইন্টার্ন চিকিৎসক অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ডা. মুকেশ রঞ্জন দে বলেন, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আমরা ৪৮ ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করেছি। তবে কর্মসূচি সোমবার দুপুর ২টা পর্যন্ত চলবে। আমাদের দাবির বিষয়ে আজ স্বাস্থ্যমন্ত্রী একটি সিদ্ধান্ত দেবেন। দাবি মানা হলে কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হবে। অন্যথায় কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মতে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
মানববন্ধনে বিক্ষুব্ধ পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেইনি ও ইন্টার্ন চিকিৎসকরা বলেন, আমরা সপ্তাহে সাতদিন, মাসে ৩০দিন, বছরে ৩৬৫ দিন ডিউটি করি। অন্যদের মতো আমাদের নেই কোনো নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা। অথচ এর বিনিময়ে আমাদের যে ভাতা দেওয়া হয়, সেটা অমানবিক। চমেক হাসপাতালে বেসরকারি হাসপাতাল, ল্যাব, ক্লিনিক, ফার্মেসি ও ডায়াগনস্টিকের দালালে ভরে গেছে। এসব দালালরাও ডাক্তারদের থেকে অনেক বেশি ইনকাম করে। ডাক্তারদের তুলনায় তারা অনেক সুখী জীবনযাপন করে। অথচ আমরা এত কষ্ট করে চিকিৎসা পেশায় নিজেদের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে উজার করে দিলেও নামমাত্র ভাতা দেওয়া হয়। যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।